Posted by Tasnia Yousuf On Dec 13 , 2025
ব্যস্ত কাজের দিনের ভিড়ে আমরা অনেক সময়ই ভুলে যাই—হাসি, আনন্দ, আর টিমের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভুলে যাওয়া অনুভূতিগুলো আবারও ফিরে পেয়েছিল পিটুপি ফ্যামিলি, যখন আমরা সবাই একত্রিত হয়েছিলাম আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত পিটুপি ক্রিকেট কার্নিভাল ২০২৫ উপলক্ষে।

৬ ডিসেম্বর ২০২৫, চট্টগ্রামের ফরচুন স্পোর্টস এরিনা–তে অনুষ্ঠিত এই একদিনের ক্রিকেট উৎসব ছিল সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টার পূর্ণদিবসের এনার্জি, উৎসাহ এবং আন্তরিকতার এক সজীব আয়োজন। এটি একটি ওয়ান ডে টুর্নামেন্ট নকআউট হলেও, দিনের মূল সৌন্দর্য ছিল টিমওয়ার্ক, বন্ধুত্ব এবং একসাথে বাঁচার গল্প।
দিনের শুরুতেই সবাই মাঠে এসে জড়ো হচ্ছিল এক অন্যরকম উত্তেজনা নিয়ে। অনেকদিন পর সবাইকে একই জায়গায়, একই এনার্জিতে দেখা—এটাই ছিল এই দিনের সবচেয়ে সুন্দর শুরু। মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটি শুধু খেলার নয়; এটি আমাদের টিমকে নতুন করে যুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ।ডিপার্টমেন্ট-ওয়াইজ দলগুলো যখন মাঠে নেমে আসতে লাগল, তখনই মুড বদলে গেল। কেউ ব্যাট করছে, কেউ বোলিং, কেউ আবার উৎসাহ দিচ্ছে —সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশে উৎসবের ছোঁয়া।

প্রতিটি ম্যাচে ছিল টানটান উত্তেজনা, সঙ্গে হাসাহাসি আর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। ছক্কা, উইকেট, বাউন্ডারি—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সহকর্মীদের চিয়ার, যা মুহূর্তগুলোকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল।
ক্রিকেটের উত্তাপ যখন মাঠে তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাশে অন্য একটি কোর্টে ভেসে উঠছিল এক নতুন ধরনের উচ্ছ্বাস—মেয়েদের ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন। এটি শুধু একটি খেলা ছিল না; বরং একটি বার্তা, যে এখন আমাদের মেয়েরা আর শুধুই ঘরের বা অফিসের চারপাশে সীমাবদ্ধ নয়। তারা কাজের পাশাপাশি স্পোর্টস-এও অংশ নিতে পারছে, নিজেদের ক্ষমতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছে।

ব্যাডমিন্টন কোর্টে প্রতিটি সার্ভ, প্রতিটি র্যালি যেন বলছিল, মেয়েরা খেলাধুলাতেও নেতৃত্ব দিতে পারে, আত্মবিশ্বাসী হতে পারে এবং আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করতে পারে। কারও হাতে র্যাকেট উঠেছিল বহুদিন পরে, কেউ প্রথমবার নামলেও সবার মুখে দেখা যাচ্ছিল আত্মবিশ্বাস এবং উদ্দীপনার ঝলক। অফিসে দায়িত্ব সামলানো, ব্যস্ত সময় সামলানো—সবই তারা করে যাচ্ছেন, আর সাথে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করছেন।
জেতা-হারার বাইরেও, মেয়েরা উপভোগ করেছেন টিমওয়ার্ক, স্পোর্টসম্যানশিপ এবং মজা করার স্বাধীনতা। এই অংশগ্রহণ পুরো ইভেন্টকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উজ্জ্বল এবং স্মরণীয় করেছে।পিটুপি ফ্যামিলিতে প্রতিটি নারী সমান সুযোগ পায়—চাই সেটা অফিসে হোক, মাঠে হোক বা নিজের মেধা ও শক্তি প্রদর্শনের অন্য কোনো জায়গায়।

মাঠের বাইরে যারা দাঁড়িয়ে ছিল, তারাও কম যায়নি। হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, কেউ আবার মোবাইলে রিল বানাতে ব্যস্ত—সব মিলিয়ে চিয়ারিং স্কোয়াড হয়ে উঠেছিল ইভেন্টের আরেক নিবিড় আকর্ষণ।বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যান্টার, ফটো সেশন এবং একে অপরকে উৎসাহ—দিনটিকে করে তুলেছিল আরও আনন্দময়।সারাদিন এনার্জি ধরে রাখতে খাবারের ব্যবস্থাও ছিল চমৎকার।সকালের স্ন্যাকস, দুপুরের গরম গরম লাঞ্চ আর সন্ধ্যার বারবিকিউ—সব মিলিয়ে খাবারের টেবিল ছিল আড্ডা ও বন্ডিং -এর আরেক চমৎকার জায়গা।

দিনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী, যা পুরো দিনের সুন্দর উপসংহার হিসেবে রঙিন হয়ে উঠেছে। বিজয়ীদের মুখে দেখা যাচ্ছিল আনন্দের হাসি, আর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল সাফল্যের উচ্ছ্বাস।

ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ফার্নিচার ডমিনেটর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে, আর রানার-আপ হয়েছে সাপ্লাই চেইন অ্যাভেঞ্জার্স। মেয়েদের ব্যাডমিন্টন খেলায় রানার-আপ হয়েছে র্যাকেট রায়ট, আর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফেদার ফাইটার্স। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ, উত্সাহ এবং টিমওয়ার্ক পুরো ইভেন্টটিকে আরও প্রাণবন্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্মরণীয় করে তুলেছে।